Ad Clicks : Ad Views : Ad Clicks : Ad Views : Ad Clicks : Ad Views :

সূরা লাহাবঃ একটি অলৌকিক সূরা?

/
/
/
43 Views
প্রায়ই কিছু ইসলামবিদ্বেষীকে সূরা লাহাব নিয়ে বিষোদগার করতে দেখা যায়।তাদের দাবি, স্রষ্টা কী করে তার কোনো এক সৃষ্টিকে অভিশাপ করতে পারেন! আবু লাহাব এবং তার স্ত্রী উম্মে জামিল এই অভিশাপ ডিজার্ভ করতো কী-না সেই আলোচনা অনেকেরই জানা আছে। আমি বরং অন্য একটি কথা বলবো। এই সূরাটিই রাসূল (স) এর নবুয়তের একটি বড়ো প্রমাণ। এই সূরাটি পড়লেই বুঝতে পারা যায় এই কুরআন বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের কাছ থেকেই এসেছে।
সূরাটি নাযিল হয় নবুয়তের শুরুর দিকে। সেসময় আবু লাহাব এবং উম্মু জামিল রাসূলকে (স) ভীষন জ্বালাতন করতো, গালিগালাজ করতো, শারিরিক ও মানসিক যন্ত্রণা দিতো। আবু লাহাবের মৃত্যু হয় বদর যুদ্ধের কিছুদিন পর। অর্থাৎ, সূরাটি নাযিল হওয়ার বেশ কিছু বছর পর্যন্ত আবু লাহাব জীবিত ছিলো। ইন্টেরেস্টিং হচ্ছে এটা যে, এই সূরায় আবু লাহাব এবং উম্মু জামিলকে জাহান্নামী বলা হয়েছে। অর্থাৎ, পরিষ্কার ভবিষ্যদ্বাণী যে আবু লাহাব এবং তার স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করবে না এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে।
এই ভবিষ্যদ্বাণীটি ভীষণ রিস্কি। কেননা, এর মধ্যে আবু লাহাব এবং তার স্ত্রী ইসলামগ্রহণ করে ফেলতেও তো পারতো! মাঝখানে ৭-৮ বছরের ব্যবধান ছিলো। এর মধ্যে আবু লাহাব ইসলামগ্রহণ করবে না এইটাকে গ্যারান্টেড করে দেয়া কি সহজ? আর নবুয়তের শুরুতেই কুরআন মিথ্যা প্রতিপন্ন করে ফেলার এই রিস্ক রাসূল (স) কেন নেবেন যদি তিনি মিথ্যা নবী প্রতিপন্ন হওয়ার ভয় করতেন?
এই প্রোফেসীটা সহজে প্রেডিক্টেবলও না। কারণ, আবু লাহাব রাসূলের (স) চাচা। তিনি ভাবতেই পারতেন যে চাচা তার কথা কোনো না কোনো একদিন ঠিক মেনে নেবেন! আর যদি এটা ভাবতেন, তবে তার মৃত্যুর আগে তার জাহান্নামে যাওয়ার কথা নিয়ে সূরা রচনা করতেন না মোটেই!
সরাসরি নামোল্লেখ করে অভিশাপ দেয়াটা এই প্রোফেসীকে আরো চমৎকার করেছে। প্রোফেসীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সেটিকে ‘পরিষ্কার’ হতে হবে। দ্ব্যর্থক হওয়া যাবে না। যদি এমন বলা হতো, ‘ধ্বংস হোক কাফিরদের হাত’, তবে এটা আর প্রোফেসী হতো না। স্পেসিফিকলি আবু লাহাব এবং তার স্ত্রী উম্মে জামিলকে জাহান্নামী বলার কারণে প্রোফেসীটি পূর্নতা পেয়েছে।
এই সূরার ২ নং আয়াতে বলা আছে, তার ধনসম্পদ কোনো কাজে আসবে না। হয়েছিলোও তাই। সে এক সংক্রামক প্লেগজাতীয় রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তার লাশ তিনদিন অবধি দাফন ছাড়া পড়ে থাকে, কেউ কাছেও ঘেঁষে না। পরে তার ছেলেরা সমাজে লজ্জার ভয়ে একটা গর্ত খুঁড়ে তাতে পাথরচাপা দিয়ে দেয়। দিনশেষে, তার সহায়-সম্পত্তি কোনো কাজে আসেনি, যেমনটি কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
এরকম অসংখ্য অলৌকিক ঘটনায় পরিপূর্ণ মহামান্বিত কুরআন। যা আমাদের এই কনক্লুশনে আসতে বাধ্য করে যে, এটা কোনো মানুষের কথা নয়। এটা এসেছে বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের কাছ থেকে।
লেখা- Asif Mahmud
  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar