Ad Clicks : Ad Views : Ad Clicks : Ad Views : Ad Clicks : Ad Views :

মুখের ব্যবহার – পর্ব ২ মোঃ আকরাম হোসেন

/
/
/
61 Views

মুখের ব্যবহার – গল্পকার: মুহাম্মদ আকরাম হোসেন, ফকির বললো, বাবা আপনার বন্ধুর মুখের যে ভাষা সে এক টাকা ও রোজি করতে পারবে না।করণ আপনার বন্ধুর মুখের ভাষা ঠিক নয়! সজিব বললো, ঠিক আছে চাচা, এটা দেখা যাবে, আপনি বলেন আমরা কি আপনার বাড়িতে থাকতে পারব? ফকির বললো, ঠিক আছে থাকতে পারেন, তবে আপনাদের কষ্ট হতে পারে!

সজিব বললো, চাচা যতই কষ্ট হোক আমরা থাকতে পারব । তার পর তাঁরা ফকিরের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিল। সকালে উঠে দুই বন্ধু ফকিরে দু’ টি পাঞ্জাবি এবং লুঙ্গি পড়ে নকল দাড়ি লাগিয়ে তারা ভিক্ষায় রওয়ানা দিলো। ভিক্ষায় যাওয়ার পূর্বে, সজিব বললো, বন্ধু আসরের আজান হলেই মোরা ফকিরের বাড়ির দিকে রওয়ানা দিব, কিন্তু ভিক্ষা করতে গিয়ে তুমি এক দিকে এবং আমি এক দিকে যাবো।

শফিক বললো, ঠিক আছে বন্ধু। শফিক যে রাস্তা দিয়ে চলে যাচ্ছে সেই রাস্তায় দেখতে পেল,একজন ভদ্র লোক ফোনে কথা বলতে বলতে তার সামন দিয়ে আসছে। শফিক বললো, ভাই! আল্লার ওয়াস্তে আমাকে কিছু ভিক্ষা দিন।সে প্রথমে কিন্তু একেবারে নিম্ন কণ্ঠে বললো। কিন্তু সে এতো নিম্ন কণ্ঠে বললো, পথিক শোনতে পারল না!শফিকের অভ্যাস কিন্তু উচ্চ কণ্ঠে কথা বলা। সে ২য় বার ও নিম্ন কণ্ঠে কথা বললো, পথিক শোনতে পারল না, ৩য় বার উচ্চ কণ্ঠে বললো, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে কিছু ভিক্ষা দিন!

 

পথিক আশ্চর্য হয়ে বললো, ফোনে আমি খুব জরুরি কথা বলতে ছিলাম।আমি তোমার কথা শোনতে পারি নি!তোমার কথায় বুঝা যায় না তুমি ফকির! মনে হয় কোনো ধনী পরিবারের লোক।তাছাড়া তোমাকে তো কখনো আমাদের গ্রামে দেখিনি।তবে একটা কথা বলে যাই মানুষের সাথে সব সময় ভালো ব্যবহার করলে ভিক্ষা পাইবে,আর যদি খারাপ ব্যবহার করো তাহলে কেউ ভিক্ষা দিবে না!এই কথা বলে পথিক তাঁর পথে চলে গেল।

যখন বিকাল হলো, তখন দুই বন্ধু ফকিরের বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলো। সেখানে গিয়ে তারা হিসাব করল,হিসাব করে দেখে সজিব তিনশত টাকা রোজি করেছে,আর শফিক মাত্র পঞ্চাশ টাকা রোজি করেছে। সজিব বললো, বন্ধু তুমি কিভাবে পঞ্চাশ টাকা রোজি করেছ? শফিক বললো, বন্ধু আমি সব সময় উচ্চ কণ্ঠে কথা বলি এটা তুমি ভালো করে জানো।

সজিব বললো, হ্যাঁ,জানি তো।তুমি বল কিভাবে পঞ্চাশ টাকা রোজি করেছ? শফিক বললো, আমি সব সময় উচ্চ কণ্ঠে কথা বলে অভ্যাস হয়ে গেছে।প্রথমে নিম্ন কণ্ঠে কথা বললাম কিন্তু সবাই আমার কথা শোনতে পায় না! আবার উচ্চ কণ্ঠে কথা বললে কেউ ভিক্ষা দেয় না! তখন আমি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে বোবা হয়ে বসে রইলাম , তখন সবাই বোবা জেনে আমাকে ভিক্ষা দিলো।

সজিব বললো, এখন বুঝতে পেরেছি, বোবা হওয়ায় ভিক্ষা পেয়েছ।তা না হলে এক টাকা ও ভিক্ষা করে নিয়ে আসতে পারতে না! তারপর দুই বন্ধু মিলে ফকিরের মেয়েকে ভালো ডাক্তার দেখাল।ফকিরের মেয়ে ভালো হওয়ার পর তারা তাদের বাড়িতে চলে গেল।

সমাপ্ত

পাঠের উদ্দেশ্যঃ মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। এই গল্প পাঠ করে পাঠক জানতে পারবে, মানুষের সাথে উচ্চ কণ্ঠে কথা বললে কেউ ভিক্ষা দিবে না, আবার একেবারে নিম্ন কণ্ঠে ও কথা বলা যাবে না!মধ্যম ভাবে কথা বলতে হবে।তা না হলে শফিকের মতো ভিক্ষায় গেলেও ভিক্ষা মিলবে না।আরেটি কথা জানতে পারবে এক টাকা ও রোজি করা কতো কষ্ট।

মুখের ব্যবহার – পর্ব ১ কবি আকরাম হোসেন

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar